জীবনযুদ্ধে বিপর্যস্ত মুক্তিযোদ্ধা ব্রজেন্দ্র লাল


এম,এ,এইচ, রাব্বী, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম:
দেশের জন্য লাল সবুজের পতাকা ছিনিয়ে আনার জন্য জীবনের মায়া ত্যাগ করে যারা অস্ত্র হাতে নিয়ে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তাদেরই একজন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম কলাউজান ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত রামানন্দ দেবনাথের পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রজেন্দ্র লাল দেব নাথ (৬৮)। যুদ্ধকালীন সময়ে তার নাম ছিল ক্যাপ্টেন করিম।
১ নম্বর সেক্টরে রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এর অধীনে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ লোহাগাড়া উপজেলা শাখার কার্যকরী সদস্য।
লাল-সবুজের পতাকা খচিত বিশ্ব-মানচিত্রে সার্বভৌম দেশ অর্জনে পাক-বাহিনী বিরোধী দুঃসাহসী লড়াকু বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রজেন্দ্র লাল দেবনাথ পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! সেই দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা ব্রজেন্দ্র লাল দেবনাথ পরিবারের সদস্যর দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগাতে চা'য়ের দোকানে এখন জীবিকা নির্বাহ করছেন। বয়সের ভার অার হার্টের অসুস্থতার কারণে উপার্জনের ক্ষমতা হারিয়ে জীবন সংগ্রামে পরাজিত। ছয় মেয়ে এবং এক ছেলেকে নিয়ে তার পরিবার পরিজন নিয়ে বেহাল-দশায় দিনাতিপাত করলেও মানবেতর জীবিকা নির্বাহকারী পরিবারটিকে দেখার কেউ নেই। সম্বল হিসেবে মাথা গোঁজার ঠাঁই একমাত্র ভাঙ্গা একটি বাড়ি। যার টিনের চালে অনেক ফুটো, বেড়া ভগ্নদশা। দেখলে মনে হবে এটি যেন একটি গোয়াল ঘর।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি বাড়ি নির্মাণে সহায়তা পেলে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে।
ব্রজেন্দ্র লাল দেব নাথ প্রতিবেদককে বলেন, জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। আজ দু’বেলা খাবার জোটাতে হিমসিম খাচ্ছি। খুব কষ্টে আছি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারের কাছ থেকে যা ভাতা পাই তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্ঠকর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছে অামার অাবেদন এই যে, মুক্তিযোদ্ধা কোঠা থেকে মাথা গোঁজার জন্য একটি বাড়ি। পরিবারের অর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য সন্তানের জন্য একটি চাকরির ব্যবস্হা করা। দীর্ঘদিন ঝাঁলমুড়ি বিক্রয় করে দিনযাপন করতাম। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কোন রকমে মেয়েগুলো বিয়ে দিয়েছি। ছেলেটি মাধ্যমিক পাস করে অনেক জায়গায় চাকরির অাবেদন করার পরও ঘুষ দিতে না পেরে কোন চাকরি হয় নাই বলে জানান মুক্তিযোদ্ধা ব্রজেন্দ্র লাল দেব নাথ।
যুদ্ধকালীন কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, মানবিক বিবেচনায় মাথা গোঁজার জন্য একটি বাড়ি তৈরি করে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি এ ব্যাপারে জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অাবু অাসলাম প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করা হবে। পাশাপাশি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে জানানো হবে।

No comments