আদর্শ শিক্ষক মাওলানা হাবিবুর রহমান (রহঃ)




মাওলানা হাবিবুর রহমান  ১৯৫৯ সালের মে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের নোয়ারবিলা গ্রামের খলিফাপাড়ার  এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জানু মিয়াজীর বাড়িতে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি শৈশব কাল থেকেই ছিলেন অত্যন্ত নম্র-ভদ্র সহজ-সরল, শান্ত-শিষ্ট এক আদর্শবান ছেলে। এলাকার বয়স্ক জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে তার সৎচ্চরিত্রের কথা জানা যায়
পারিবারিকভাবে তিনি ইসলামী মূল্যবোধে গড়ে উঠেন। তাঁর পিতা হাজী ইসহাক মিয়াজী একজন আদর্শবান ব্যবসায়ী জমিদার হিসেবে এলাকায় ব্যাপক সুনাম রয়েছে। তাঁর নানা মরহুম মাওলানা ওবাইদুল্লাহ (রহ) ছিলেন একজন মাদ্রাসা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন। তার মামা মরহুম মাওলানা আহছান উল্লাহ (রহ) ছিলেন চরম্বা জামেউল উলুম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট আলেম এবং ওয়ায়েজিন। তাঁর শ্বশুর ছিলেন চুনতীর প্রখ্যাত আলেম মরহুম মাওলানা আব্দুন নুর সিদ্দিকী (রহঃ)
এই শিক্ষক ছোটকাল থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করার পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গারাংগীয়া ইসলামীয়া আলীয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে তিনি কৃতিত্বের সাথে ১৯৭১ সালে দ্বিতীয় বিভাগে দাখিল পাশ করেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম বিভাগে আলিম পাশ করেন। ১৯৭৫ সালে দ্বিতীয় বিভাগে ফাজিল পাশ করেন। ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম দারুল উলুম আলীয়া মাদ্রাসা থেকে হাদিস বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণী অর্জন করেন। শিক্ষা জীবন শেষে পেশা হিসাবে বেচে নিয়েছেন শিক্ষকতাকে সে হিসাবে তিনি ১৯৭৭ সালে সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন নিজ এলাকার চরম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ে সেখানে দীর্ঘ ( সাত) বছর শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন  করে ১৯৮৪ সালে চলে আসেন চট্টগ্রাম শহরের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত বিদ্যালয়সমূহে তিনি পাঠানটুলী বালক সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্মীয়  শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে এখান থেকে বছরের শেষের দিকে চকবাজারের কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কলেজে যোগদান করেন
এই স্কুলে দীর্ঘ ১০ (দশ) বছর শিক্ষকতা করে ১৯৯৪ সালে চলে যান পাহাড়তলী সরাই পাড়া সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় কলেজে। এই স্কুলেও দীর্ঘ (চার ) বছর শিক্ষকতা করে ১৯৯৮ সালে চলে আসেন কোরবানিগঞ্জ বলুয়ার দীঘীর পশ্চিম পাড়স্থ লামা বাজার , এস, সিটি কর্পোরেশন  বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। এখানেও দীর্ঘ (সাত) বছর শিক্ষকতা শেষে সর্বশেষ স্থানান্তরিত হন ডবলমুরিং থানার চৌমুহনী মোড়ে পাঠানটুলী খান সাহেব সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় (সাত) বছর শিক্ষকতা করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সনের ১২ জুন চকবাজারস্থ ডি সি রোড়ের নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেছিলেন। সেই সাথে নিজ এলাকার প্রতিষ্ঠানে (সাত) বছর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে ২৮ (আটাশ) বছরসহ সর্বমোট ৩৫ (পয়ঁত্রিশ) বছরের দীর্ঘ শিক্ষকতার সমাপ্তি ঘটে
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৩ (তিপ্পান্ন) বছর  উক্ত  শিক্ষকের একাধিক সহকর্মীর সাথে যোগাযোগ করে জানা যায় যে, তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল ভদ্র এবং আদর্শবান শিক্ষক ছিলেন। তাঁর স্বভাব ভাল ব্যবহারের একাধিক প্রশংসা করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানশিক্ষক, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা।

No comments