আওয়ামীলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম মেধাবী ও আলোকিত নন্দিত রাজনীতিবিদ- মুহাম্মদ আবদুল খালেক


আমিনুল ইসলাম। চট্টগ্রামের গর্ব। সাতকানিয়া- লোহাগাড়ার জননন্দিত নেতা। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে শুভ্র শুভক্ষণে তাঁর জন্ম। কালের প্রবাহে মেধা-মননে আর সততার সিঁড়ি বেয়ে ধ্রুবতারা হয়ে রাজনীতির আকাশে আমিনুল ইসলামের উদয়। অনেক চড়াই-উৎরায় ডিঙিয়ে আবার কখনো আলো-আঁধারির বেড়াজাল পেরিয়ে রাজনীতির লাইমলাইটে চলে এলেন আমিনুল ইসলাম। ‘স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ আর দেশপ্রেম’ তাঁর চিন্তা-চেতনায় প্রধান আলোচ্য হয়ে ওঠল। ‘মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে’ এ প্রত্যয়ে আর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি রাজনীতির পথে এগিয়ে গেলেন। রাজনীতির পথ বড়ই পিচ্ছিল। এ পথ দুর্গম, দুর্জয় আর দুর্লভ। অদম্য সাহস, সততা আর ন্যায়-নিষ্ঠা আমিনুল ইসলামের প্রধান অবলম্বন ও সম্বল।

১৯৮১ সাল। আমিনুল ইসলামের রাজনীতির পথে যাত্রা শুরু। চট্টগ্রাম শহরের দেওয়ান বাজার শাখার ছাত্রলীগের ওয়ার্ড মেম্বার। এখান থেকে সামনে চলা। যেন অনেক দূর প্রান্ত হতে রাজনীতির আলোকিত ক্যাম্পাসে কেউ ডাকছে। জ্যামিতিকভাবে নয়, গাণিতিকভাবে তিনি সদর্পে মেধাবী যোগ্যতায় ১৯৮২-৮৪ তে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের মেম্বার পদে উন্নীত হন। কখনো দ্রুত আবার কখনো ধীর পদক্ষেপে পথচলা। তিনি ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ অলংকৃত করলেন। ছাত্রলীগের রাজনীতির আলোচ্ছটা ছড়িয়ে সারা দেশব্যাপী। পুরো দেশে ‘আমিন ভাই’। গা ঝাড়া দিয়ে ওঠলো বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ক্যাম্পাস। ১৯৮৯ সালের কথা। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেম্বার পদে উত্তীর্ণ। আমিনুল ইসলামের রাজনীতির বৃহৎ পরিসরে বসবাস। ১৯৯২ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, ১৯৯৪ সালে সহ-সভাপতি এবং ১৯৯৮ সালে সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ অলংকৃত করার মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতির সমাপ্তি।
বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির আঙিনায় বর্ণিল বর্ণাঢ্য ও পুষ্পিত নাম ‘আমিনুল ইসলাম’। ছাত্রদের বহুবিধ সমস্যা সমাধানে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। জাতির বিভিন্ন সংকটময় মুহুর্তে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র রাজনীতিতে সুস্থ ধারার ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশ পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। এক কথায় শিক্ষা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমৃদ্ধি ও উৎকর্ষ সাধনে তাঁর সাহসী কার্যকরী পদক্ষেপগুলো আজো স্মর্তব্য।
২০০২ সাল। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। সোনার তরীতে চড়ে চষে বেড়াচ্ছেন গ্রাম হতে গ্রাম, শহর হতে শহর ও মানুষের হৃদয়ের পদ্মাসনে অধিষ্ঠিত আমিনুল ইসলাম। সুদীর্ঘ ছাত্র রাজনীতি থেকে অর্জিত সঞ্চিত অভিজ্ঞতা আর উপলব্ধির জ্যোতিতে তিনি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। স্বাধীনতার স্থপতির আত্মজা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রীর হৃদয় নিংড়ানো পুষ্পিত আর্শিবাদে তিনি রাজনীতির আকাশে উজ্জ্বল নিবিড় পবিত্র অকলঙ্ক নেতা।
২০০৯ সাল। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম। রাজনীতির সানাইয়ের সুরে বেঁজে ওঠলো ‘জয় আমিন, জয় আমিন’। তিনি দু’বাহু বাড়িয়ে মাটি ও মানুষের কল্যাণে ছুটে এলেন প্রিয় জন্মভূমি ‘সাতকানিয়া- লোহাগাড়ায়’।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বারদোনা গ্রাম। অলিকূল শিরোমণি হযরতে গারাঙ্গিয়া আবদুল মজিদ শাহ্ (রাহঃ) ও হযরত আবদুর রশিদ (রাহঃ) এর পদচারণায় ধন্য-গর্বিত এতদাঞ্চল। হযরতে গারাঙ্গিয়ার নূরে নজরে আর আধ্যাত্মিকতার পরশে ‘সিরাজুল ইসলাম ও হাজেরা বেগম’ দম্পতির কোল জুড়ে গর্বের ধন আমিনুল ইসলাম। আমিনুল ইসলাম শুধু পরিবারের নয়, পুরো বাংলাদেশের সম্পদ। পাঁচ ভাই এক বোনের মাঝে তিনি দ্বিতীয়। মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে ইহ ও পারলৌকিক সফলতার শক্তি-সাহস সঞ্চয় করলেন। তিনি চট্টগ্রামস্থ সোবহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ছাত্র ছিলেন,এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করে, ডিগ্রী এবং উচ্চ শিক্ষা লাভের লক্ষ্যে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক প্রশাসন বিভাগে অধ্যয়ন করে কৃতিত্বের সাথে স্নাতোক্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি পড়ালেখায় যেমন সফল, রাজনীতির ময়দানেও সফল।
১৯৮১ থেকে ১৯৯৮ সাল। সুদীর্ঘ পথ। প্রায় ১৮ বছরের ছাত্ররাজনীতি। বিচিত্র আর বৈচিত্রপূর্ণ অনুভূতি ও অনুভবের স্পন্দনে স্পন্দিত আমিনুল ইসলামের হৃদয়-মন-শরীর। দেশি-বিদেশি রাজনৈতিক সংস্কৃতি সরেজমিনে উপলব্ধির লক্ষ্যে তিনি সৌদিআরব, আমেরিকা, চীন, দুবাই, থাইল্যান্ড, মালেয়শিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। আমিনুল ইসলাম বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রাজনীতিবিদদের কাতারে। বিশেষ করে সাতকানিয়া- লোহাগাড়ায় আমিনুল ইসলামের অবস্থান দল-মতের উর্ধ্বে। নিজ দলের বাইরেও তাঁর অবস্থান অনেকটা ভালো। অনেককে বলতে দেখা যায়, ‘আমিন প্রার্থী হলে, তাকেই ভোট দেব’। চুনতির ঐতিহাসিক ১৯দিন ব্যাপী সীরতুন্নবী (সঃ) মাহফিলে তিনি বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘নিরাপরাধ কেউ গ্রেফতার হলে, পুলিশ প্রশাসনকে দায়ী করা হবে। অযথা মানুষকে হয়রানি করা- এ ধরণের রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমি লালন করি না’। তাঁর সত্যভাষণ, নির্লোভ দৃষ্টিভঙ্গি, দলমতের উর্ধ্বে ওঠে মানুষকে ভালোবাসা এবং সর্বোপরি দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের দুঃখ আর দুর্যোগে ছুটে আসায় তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ এলাকাবাসী। এলাকার অনেক সুধী সজ্জনকে বলতে শুনা যায়, ‘অ বাজি আমিন ভাই নইলে এড়ে বহুত মানুষ মারা যাইত, গুন্ডা পান্ডা বারি যাইত। জেলত যাইত হাজার হাজার। অ বাজি আমিন ভালো পোয়া। এইল্ল্যা পোয়ার দরহার’।
বিভিন্ন গণসচেতনতামূলক সভা, সমাবেশ ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সার্বিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে তাঁর অবস্থান তৃণমূল পর্যন্ত সুদৃঢ়। উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে- আলুরঘাট সড়কে ডলু খালের ওপর ৬০.০৫ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ, শিকদার পাড়া- মাইজপাড়া সড়কের ডলু খালের ওপর ৩৬.০৫ মি. আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, জমাদর পাড়া সোনাকনিয়া সড়ক এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন, দেওয়ানহাট ডিসি- তেওয়ারীহাট ডিসি চিববাড়ি সড়ক উন্নয়ন (১টি বক্স কালভার্টসহ), অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ সড়ক উন্নয়ন, টংকাবতী প্রাইমারী স্কুল- বারদোনা শাহ্ মজিদিয়া এম. এ. বারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক উন্নয়ন, পদুয়া চিববাড়ি সড়ক উন্নয়ন, আবদুল খালেক শাহ্ সড়ক উন্নয়ন, আমিরাবাদ মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান সড়ক উন্নয়ন, চুনতি সাতঘর শাহ্ আতাউল্লাহ (বড়–য়া পাড়া দোকান হতে) সড়ক উন্নয়ন, চুনতি সিরাত মাহফিল সড়কে রাতার খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ, পদুয়া শাহ্ মজিদিয়া সড়ক উন্নয়ন, রামপুর ডিসি সড়ক আমির বাপের পাড়া সড়কে থমথমিয়া খালের উপর ৩ ব্যান্ড বক্স কালভার্ট নির্মাণ, দরবার শরীফ সড়কে সোনাইছড়ি খালের উপর আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ, পদুয়া ছগীরা পাড়া সড়ক ও ২টি বক্স কালভার্টসহ উন্নয়ন, রশিদার পাড়া সড়ক উন্নয়ন, লোহাগাড়া-জমিদার পাড়া সড়ক উন্নয়ন, বড়হাতিয়া এশাতুল উলুম মাদ্রাসা সড়ক কার্পেটিং। এসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নে ৯ কোটি ১৫ লক্ষ ২০ হাজার ৬৫৬ টাকা ব্যয় করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় হতে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিশেষ বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় ৫০ লক্ষ, ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় ১ কোটি ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নিজস্ব ও এডিপি হতে সাড়ে ৮ লক্ষ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়। রশিদারঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ৪৫ লক্ষ টাকা, দক্ষিণ সাতকানিয়া গোলামবারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ১ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা বিভিন্ন এলাকার মসজিদ ও মন্দির সংস্কারে বরাদ্দ প্রদানে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। সরকারি-বেসরকারি এনজিও এবং ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন মসজিদ, ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ, হেফজখানা, এতিমখানা, মাজার, পূজা-মন্ডপ, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বহুভাবে অনুদান এনে দিয়েছেন তিনি।
রাজনীতি দেশের জন্যে, রাজনীতি মানুষের জন্যে, রাজনীতি দেশের উন্নয়নের জন্যে, রাজনীতি স্বাধীনতার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার জন্যে আর রাজনীতি হচ্ছে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্যে। সর্বোপরি রাজনীতি হচ্ছে সুশিক্ষিত জাতি গঠনের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের দীপ্ত উচ্চারণ। আমিনুল ইসলাম সেই অনাগত রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধ্রুবজ্যোতি হোক এই প্রত্যাশা এবং আর্শিবাদ। জয় হোক আমিনের। জয় হোক মানবতার, জয় হোক বাংলাদেশের।
বর্তমানে আমিনুল ইসলাম আমিন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির
উপ প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

No comments