লোহাগাড়া ইউএনও কে খোলা চিঠি- রিদুওয়ানুল হক সুজন


বরাবর
ইউএনও লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম
বিষয়: লোহাগাড়া বটতলী শহর পরিচালনা কমিটি।

জনাব
শুরুতে আমি অধমের শুভেচ্ছা লইবেন।
আমি রিদওয়ানূল হক সুজন,  লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক আহবায়ক হই এবং ব্যক্তিগতভাবে পৈতৃকসূত্রে লোহাগাড়া হাজী বদিউর রহমান মার্কেটের স্বত্বাধিকারী হই।

আশা করি লোহাগাড়ায় আপনার যোগদান আমাগো আরো বেশী সামনের দিকে এগিয়ে লইয়া যাইবে।
আপনি যোগদান করিবার দিনই মাঝরাতে ব্রীক ফিল্ডে অভিযান পরিচালনা করিয়া বুঝাইয়া দিয়াছেন আপনি কর্ম পাগল এক নির্বিক যোদ্ধা। তাতে আর সকল সাধারণ লোহাগাড়াবাসীর মত আমিও আনন্দিত ও আশান্বিত হইয়াছিলাম।
 আপনি বটতলী মোটর স্টেশনে অবৈধ ফুটপাত দখলদারদের উচ্ছেদ করিতে আসিয়া ঝটিকা নির্দেশে বর্তমান পরিচালনাধীন বটতলী শহর পরিচালনা কমিটির মাসিক চাঁদা বন্ধের নির্দেশ দিয়াছিলেন বলে এফবি মারফত খবর পাইলাম।
কিন্তু একটু জানাইবেন কি এসব ছিন্নমূল দোকানদাররা যখন সারা বছর ফুটপাত দখল করিয়া ব্যবসা করে তখন কেন তাদের বাধা দেয়া হয় না? শুধু রমজান মাসে কেন এ বিধি নিষেধ?  যাই হোক এটা আমার আলোচ্য বিষয় নয়।

এবার মূল কথায় আসা যাক
,ফেইসবুক মারফত জানিতে পারিলাম গতকালও নাকি আপনার দপ্তরে বটতলীর বিষয়ে মিটিং করেছেন। কিন্তু আমাদের মত ভবন মালিক আর অনেক পুরোনো এবং নতুনসহ অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী তাহাতে দেখি নাই। হয়তো তারাও আমার মতো দাওয়াত পাই নাই।
 তাই আমি আপনার কাছে আমার তরফ থেকে এ খোলা চিঠি লিখিলাম।

জনাব,
এই বটতলী শহর আমার পূর্বপুরুষদের ঘামে গড়া শহর। এ শহর একদিনে তৈরী হয়নি।
আগে এ শহর পরিচালনার জন্য শহর উন্নয়ন কমিটি ছিল।
কিন্তু গত বছর ইহাকে বিলুপ্ত না করিয়া শহর পরিচালনা কমিটি গঠন করিবার পর হইতে গতকালের কমিটি পর্যন্ত তিনটা কমিটি করা হইয়াছে।
যাহা হইতে বুজিতে পারা যায় এ কমিটির ফরমেটে গোলমাল আছে নচেৎ কেন এক বছরে একটা বাতিল করিয়া আরেকটা করিয়া তিনটা কমিটি করিতে হইবে??

এখন আসুন!!!  গলদটা কোথায় তাহা খুজিয়া লই।
আমার জানামতে বর্তমান কমিটিটা হাট বাজার পরিচালনা কমিটির আদলে তৈরী করা।
কিন্তু একবার বলিবেন কি বটতলী শহরের হাট বাজারের পরিধি কতটুকু??
বলিবেন কি বাজারের জন্য সরকারী কোন জায়গা বরাদ্দ আছে কিনা??
উত্তর: নাই।
এ বটতলী শহরের যে বাজার সেটা ব্যক্তি মালিকানাধীন বাজার।  সরকারী জায়গার উপর নয়।
তারপরও ধরিয়া লইলাম ফুটপাতের অংশটা বাজার, তাহা হইলে পুরো বটতলী শহরকে কেন হাট বাজারের সাইনবোর্ড লাগিয়ে আমাদের বটতলী শহরকে মর্যাদায় ছোট করা হবে।
প্রায় ২৬ টির উপরে ব্যাংক আর ছোট ছোট অনেকগুলো ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে গড়ে উঠে এ শহর। এখানে ৫০টার উপরে ছোট বড় শপিং কমপ্লেক্স রয়েছে। তাইলে কেমনে এ শহরকে আপনারা হাট-বাজার বলিবেন।
যাহা কোনভাবেই আইনসম্মত নয়।
এবার আসুন, আগের শহর উন্নয়ন কমিটির কথা।
এ কমিটির নামটা যথাযথ না হইলেও সর্বশেষ কমিটিটা ছিল বটতলীর ব্যবসায়ী ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত। কিন্তু গঠণতান্ত্রীক গলদের কারণে কলমের খোচায় এটা অকেজো হইয়া পড়িয়া আছে।
আপনি, আমি সকলেই জানি, ব্যবসায়ীদের একটা সংগঠন থাকে। সেটা ইন্ডাস্ট্রি হলে এক রকম আবার দোকান ব্যবসা হলে"  বণিক সমিতি "" নামে হইয়া থাকে এবং ইহাতে ডেকোরাম অনুযায়ী সকল ব্যবসায়ীরা সদস্য হয় আর তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে ব্যবসায়ী নেতা নির্বাচিত হয়। যেহেতু বটতলী শহর অনেক বড়, আমিরাবাদ এবং লোহাগাড়া দুটো ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত। তাই এ শহরের হাটবাজার অংশটি নির্ধারণ করিয়া ইজারাদারদের সীমানা নির্ধারণ করা দরকার।  তাদের অংশের ময়লা পরিস্কারের দায়িত্ব কে লইবে এটাও নির্ধারণ হওয়া দরকার। আরো অনেক বিষয় আছে যেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হলে বারবার এটা নিয়ে বটতলীর ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভোগান্তি হবে।
আমি অধম এসব বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা পেশ করিলাম যদি এতে ১% ও কাজে আসে নিজেকে ধন্য মনে করিব।
প্রস্তাবনা সমূহ:
১. ব্যবসায়ীদেরকে তাদের জন্য " বণিক সমিতি" গঠন করা হবে মর্মে ডেকে গণশুনানীর ব্যবস্থা করা, যাতে সকলের মতামতের ভিত্তিতে বণিক সমিতি গঠন করা এবং দ্রুত সময়ে সমিতির সদস্যদের নিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

২. বর্তমান কমিটির আহবায়ক উক্ত গণশুণানীর আয়োজন করবেন আর এতে আপনি সভাপতিত্ব করবেন।
৩. ময়লা পরিস্কার করবে বণিক সমিতি তাদের নিজ তহবিল থেকে, যা তারা ব্যবসায়ীদের নিকট হইতে কালেকশন করবে।
৪. ইজারাদারকে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়ে সে অংশের ময়লা পরিস্কারের দায়িত্ব তাদের দেয়া নতুবা তাদের কাছ থেকে বাৎসরিক একটা টাকা ময়লা পরিস্কার বাবদ বণিক সমিতি কে প্রদান করা।
আমার মনে এ ছোট বিষয় গুলো আমলে নিয়ে নতুন সিস্টেমে ব্যবসায়ীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হলে কমিটি সংক্রান্ত ও পরিচালনা সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন হবে।
সাথে সাথে বটতলী শহরের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা আপনাকে।
আশা করি মনে কষ্ট না লইয়া ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

ইতি,,,,,
রিদওয়ানুল হক সুজন
সাবেক আহবায়ক
লোগাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ

স্বত্বাধিকারী, হাজী বদিউর রহমান মার্কেট।

No comments