তারাবীর গল্প(১) - মুহাম্মদ ত্বারেক

তারাবীর গল্প(১) - মুহাম্মদ ত্বারেক

(২ বছর আগে)
পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। একজন মুরব্বী পিছন থেকে ডাক দিল। আমি হাঁটা বন্ধ করে থামলাম। তিনি বললেন, "তোকে এ বছর আমাদের মসজিদে তারাবী পড়াতে হবে। তুই আর কোথাও তারাবী ঠিক করিসনা"
আমিও ভাবলাম, প্রতিবেশী মানুষ, মসজিদটাও পাশে। এ বছর এখানে পড়াই। ওনার প্রস্তাবে সম্মতি দিলাম। এরপর ওনার কথায় আর কোথাও ইন্টারভিউ দিইনি, কোনো মসজিদের খবরও রাখিনি।

প্রায় রমজান এসে গেল। আর একটা মাত্র জুমাবার আছে। ঠিক এমন সময় ঐ মুরব্বীর সাথে দেখা। তিনি বললেন,"তোকে যখন আমাদের মসজিদে রাখবো, তখন আজ এশার নামাজে তুই ইমামতি করবি আর মুসল্লিরা তোর পড়া শুনবে। তাদের একটা মতামতের ব্যাপার আছে।"

বেশ! আমি গেলাম এশার সময়। আপনারা জানেন যে বেশিরভাগ জায়গায় তারাবী দ্রুত আর ওয়াক্তিয়া নামাজের কেরাত ধীরে পড়া হয়। এশার নামাজ সাধারণভাবে যেমনটা পড়াই তেমনটা পড়ালাম।

নামাজ শেষে মুনাজাত করে দেখলাম, কমিটির সদস্য (ওনার পদ কি ছিল জানতাম না) কারো সাথে কোনো কথা না বলে চলে গেল। যার মতামত ছাড়া কমিটির অন্য লোকেরা হাফেজ রাখতে পারবেনা। সেদিন ওনি উঠে চলে গেলেন। কমিটির বাকি সদস্যরা ওনার মতামত ছাড়া কিছুই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। আমাকে বললেন, "আপনি চলে যান, আমরা আপনাকে পরে জানাবো।"
আমি চলে এলাম। বুঝলাম যে আমাকে রাখবেনা তারা। পরদিন-ই তারা আমাকে রাখতে অপারগতা প্রকাশ করল।

আর মাত্র এক সপ্তাহ, একটাই রমজানের আগে জুমাবার আছে। কোথাও কোনো ইন্টারভিউ'র খবর পেলাম না। ঠিক করে নিয়েছিলাম, এ বছর আর তারাবী পড়াব না। জুমাবারে মাদ্রাসায় গেলাম। শুনলাম, আজ একটা ইন্টারভিউ আছে পাশের আরকেটা মসজিদে।সেটি একটু দূরে। যদিও আমি যেতে চাইনি, পরে আমার বন্ধুরা জোর করে পাঠালো। আস্তে আস্তে পায়ে হেঁটে মসজিদে গেলাম। জুমার পর ইন্টারভিউ হল। সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলাম। আরো যারা এসেছিল ইন্টারভিউ দিতে তারাও পেরেছে। নাম্বার নিল সবার। আমারটাও নিল।

মাগরিবের নামাজ পড়ে বাবার জন্য ওষুধ আনতে গেলাম ঠিক তখন অচেনা নাম্বার থেকে একটা কল আসলো। রিসিভ করে

-আপনি আজ যে মসজিদে ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন আমি সেই মসজিদের সেক্রেটারি।
--জ্বী, আচ্ছা! বলুন
-আমরা আপনাকে তারাবীর জন্য সিলেক্ট করেছি। আপনি চলে আসবেন চাঁদ উঠলে।
--ইনশা আল্লাহ! চলে আসবো।

তখন খুশিতে মনটা ভরে গেল। কূলহারা এক মাঝি যেন কূল পেল।

No comments